
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে, ভারত এখনো শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করছে না—রায়ের পরও অবস্থান অপরিবর্তিত
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করলেও তিনি এখন যে দেশের আশ্রয়ে আছেন, সেই ভারত সরকার এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদন বলছে, ভারতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন—এই রায় দিল্লির অবস্থান বদলাবে না এবং শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতের বক্তব্য, তিনি ৫ অগাস্ট ২০২৪-এ ভারতে প্রবেশের পর থেকে যে ‘সাময়িক আশ্রয়’ দেওয়া হয়েছে, সেটাই এখনও বজায় রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো ইঙ্গিত নেই। অর্থাৎ বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাকে আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে—এই নীতি এখনো অপরিবর্তিত।
প্রত্যর্পণ দাবি—এবার চাপ বাড়তে পারে
বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতকে ‘নোট ভার্বাল’-এর মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছিল। দুই দিন পর ভারত প্রাপ্তি স্বীকার করলেও এরপর আর কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর দিল্লির ওপর এ বিষয়ে মুখ খোলার চাপ বাড়তে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে বারবার বলেছেন—প্রত্যর্পণ চুক্তির বহু ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনুরোধ নাকচ করা বা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ আছে, প্রয়োজনে ভারত সেই পথেই হাঁটবে।
পরিস্থিতির পরিবর্তন—তবু অবস্থান অপরিবর্তিত
গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়, তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার চার্জও গঠন হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং আদালত প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনাও নজরে আসে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল—তাকে ফেরত পাঠালে ন্যায়বিচার নাও হতে পারে।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে—কারণ শেখ হাসিনা এখন আদালতে গণহত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত। ফলে ভারত কেন একজন ‘পলাতক ও দণ্ডিত অপরাধীকে’ আশ্রয় দিচ্ছে—তার ব্যাখ্যা চাওয়ার চাপ বাড়বে।
তবু বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদন জানায়, দিল্লির মৌলিক অবস্থান বদলাচ্ছে না। ভারতকে হয়তো সাফাই দিতে হবে, তবে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
প্রত্যর্পণ চুক্তির ফাঁকফোকর—ভারতের প্রধান যুক্তি
২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বলা আছে—
অভিযোগ ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হলে অনুরোধ খারিজ করা যাবে।
তবে হত্যা, বোমা হামলা, গুম, সন্ত্রাসবাদ—এসব ‘রাজনৈতিক’ বলে মানা যাবে না।
শেখ হাসিনার মামলায় এসব অভিযোগ থাকায় খারিজ করা কঠিন মনে হলেও ভারতের হাতে রয়েছে আরেকটি পথ। ২০১৬ সালের সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী অভিযোগের প্রমাণ না দিলেও গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখালেই অনুরোধ গ্রহণযোগ্য হবে।
তবুও চুক্তির এমন ধারাও আছে—
যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় অভিযোগগুলো ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরলভাবে আনা হয়নি’, তবে তারা অনুরোধ নাকচ করতে পারে।
‘সামরিক অপরাধ’ হলেও অনুরোধ খারিজের সুযোগ রয়েছে।
বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত সহজেই বলতে পারে—শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পাবেন না, তাই হস্তান্তর সম্ভব নয়।
অর্থাৎ “অভিযোগগুলো ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনা হয়নি”—এই ধারা ব্যবহার করেই দিল্লি অনুরোধ নাকচ করতে পারবে—এমনটাই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
0 Comments