সংকটের কঠিন মুহূর্তে বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন পেয়েছি: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ধ্বংসের লক্ষ্যে একাধিক চক্রান্ত হয়েছিল। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাকে অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণেরও চেষ্টা হয়েছিল, তবে তিনি দৃঢ় অবস্থানে থাকায় কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি।
রাষ্ট্রপতি জানান, সেই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাঁর পাশে ছিল এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কোনো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে তারা নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে অপসারণের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার স্থলাভিষিক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তিন বাহিনীর প্রধানরা বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনোবল জুগিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়েছেন। বঙ্গভবনের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সশস্ত্র বাহিনী তার পক্ষে অবস্থান নেয় বলে তিনি জানান।
এছাড়া, বিদেশ সফর ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। এমনকি দেশের বাইরে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে নেওয়া এবং প্রেস উইং প্রত্যাহারের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির দাবি, একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই অপসারণের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকে।

0 Comments